কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে সুরমা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১২টি রংবেরঙের নৌকা অংশ নেয়।
নৌকাবাইচকে ঘিরে সুরমা নদীর দুই তীর ও আশপাশের হাওরাঞ্চলে মানুষের ঢল নামে। নৌকা, ট্রলার ও বিভিন্ন জলযানে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ উপভোগ করেন জমজমাট এ প্রতিযোগিতা। হাওরের বিস্তৃত জলরাশিতে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের হইহুল্লোড় ও দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খানসহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম কামাল হোসেন, খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান, ইটনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ জনপ্রতিনিধি, বিএনপির নেতাকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “১৭ বছর নৌকা দেখলেই আমাকে পালিয়ে থাকতে হতো। আর আজ ১৭ বছর পর নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ পেলাম। এটাই আমার প্রথম নৌকাবাইচ দেখা। এসে খুব ভালো লেগেছে, আমি সত্যিই অভিভূত। হাওরবাসীকে আনন্দ দিতে প্রতিবছর যেন এ প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকে।
আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইটনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু সুমেশ চন্দ্র গোপ ও ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবু ভজন কান্তি দাস। স্থানীয়রা জানান, নৌকাবাইচ হাওরাঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব। তাই প্রতিবছর নিয়মিতভাবে নৌকাবাইচ আয়োজনের দাবি জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন :