মোঃ হাসান, বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা রেঞ্জে প্রাকৃতিক বন উজাড় ও শতবর্ষী গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন ডিভিশনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের নামে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘জোত পারমিট’ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে একটি চক্র বাগানের গাছ কাটার অনুমতি দেখিয়ে প্রাকৃতিক বন থেকে গাছ কাটছে। পরে পাহাড়ি ছড়া ও সাঙ্গু নদীপথে এসব কাঠ পাচার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিখিত অনুমতি ছাড়াই মৌখিকভাবে গাছ কাটার সুযোগ দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, এসব অভিযোগ নতুন নয়। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং বন বিভাগের ভেতরেই তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। বর্তমানে ওই রেঞ্জ কর্মকর্তা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত। এই প্রভাবের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকির অভাবে বননিধন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং খাদ্যসংকটে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসায় ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে রেমাক্রী প্রাংসা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল মোর্শেদ মুঠোফোনে প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আমাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। সংবাদ করলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।”
এ বিষয়ে বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন ডিভিশনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :