আকরাম,চট্টগ্রাম :বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী (চন্দন কুমার ধর) পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে অন্যান্য মামলা বহাল থাকায় এখনই তাঁর কারামুক্তি মিলছে না। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন। আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।
আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পুলিশি কাজে বাধা দেওয়া এবং ভাঙচুরের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আজ হাইকোর্ট সেই মামলাগুলোতে রুল মঞ্জুর করে তাঁকে জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো বিচারাধীন থাকায় আপাতত কারাগার থেকেই তাঁকে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
২০২৪ সালের শেষ প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচিত নামগুলোর একটি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খানের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিন নামঞ্জুরের দিন আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর অনুসারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সংঘাতের জেরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং পুলিশ একাধিক নতুন মামলা দায়ের করে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই জামিন আদেশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনি লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা রাষ্ট্রদ্রোহ এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাসংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কারামুক্তির সম্ভাবনা নেই। ফলে মামলাগুলোর পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে সবার নজর থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :