কর্মকর্তা সংকটে স্থবির রায়গঞ্জ পৌরসভা, সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পৌরবাসী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

কর্মকর্তা সংকটে স্থবির রায়গঞ্জ পৌরসভা, সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পৌরবাসী

রাম সরকার বিপ্লব ,রায়গঞ্জ : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম। নাগরিক সনদ ও চারিত্রিক সনদ নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নিয়মিত হচ্ছে না পৌর এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পৌর কার্যালয় চত্বরে পড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি। অনেক সময় অফিস কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায়গঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের কার্যক্রম বাতিল করা হয়। এরপর থেকে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসব দায়িত্ব পালন করছেন।

পৌরবাসীর অভিযোগ, নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য পৌরসভায় গিয়ে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে স্বাক্ষর না হওয়ায় সনদ নিতে না পেরে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।পৌরসভার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সীমান্ত তালুকদার বলেন, চারিত্রিক সনদের জন্য কয়েক দিন ধরে পৌরসভায় ঘুরছি। কিন্তু স্বাক্ষর না হওয়ায় সনদ পাচ্ছি না। শুধু আমি নই, অনেক মানুষই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য পৌরসভায় ঘুরছেন। তিনি বলেন, পৌরবাসী হিসেবে যে সেবা পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছি না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও হচ্ছে না। আমরা পৌরকর দিই, কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবা পাচ্ছি না।

আরেক বাসিন্দা রেজুয়ান আহমেদ সিফাত বলেন, রায়গঞ্জ পৌরসভা জনবল সংকটে স্থবির হয়ে গেছে। নির্বাহী কর্মকর্তা নেই, প্রকৌশলী নেই। প্রশাসকও নিয়মিত অফিস করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় পৌরসভার কার্যক্রম ঢিলেঢালাভাবে চলছে।উপজেলা যুবদলের নেতা আশিকুর রহমান প্লাবন বলেন, পৌরসভা নাগরিকদের সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রায়গঞ্জ পৌরসভা থেকে বর্তমানে পৌরবাসী সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। মেয়র নেই, কাউন্সিলর নেই, স্থায়ী কর্মকর্তাও নেই। সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে মানুষকে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত প্রকৌশলী না থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও ঠিকমতো তদারক করা হচ্ছে না। পৌরসভায় একজন স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন, যিনি নিয়মিত অফিস করে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করবেন।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। অথচ পৌর কার্যালয় চত্বরে পড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব গাড়ি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করছেন কি না বা কাজ করছেন কি না, তা দেখার কেউ নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে না থাকলেও বেতন হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাজও চলছে দায়সারাভাবে।

রায়গঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় রায়গঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়গঞ্জ পৌরসভায় স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। ২০০৫ সালে ৬ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে রায়গঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং বর্তমান জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৮২৭ জন।

Link copied!