লোহাগড়ায় ব্যবহৃত পোড়া ভোজ্য তেল সংগ্রহে উদ্যোগ

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

লোহাগড়ায় ব্যবহৃত পোড়া ভোজ্য তেল সংগ্রহে উদ্যোগ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত ও পোড়া ভোজ্য তেলের অনিরাপদ পুনঃব্যবহার বন্ধে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মিষ্টির দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান এবং যারা তেলে ভেজে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করেন, এমন ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত তেল বারবার ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্য নড়াইল জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ভোজ্য তেল দীর্ঘ সময় ধরে বা বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার করলে তেলের গুণগত মান পরিবর্তিত হয়। ফলে ওই তেল দিয়ে তৈরি খাবার ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় লোহাগড়া বাজার ও লক্ষ্মীপাশা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মিষ্টির দোকান, ফাস্টফুডের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ভাজাপোড়ার দোকানসহ তেলে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত তেল সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ড্রাম রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, রান্না বা ভাজার পর অবশিষ্ট তেল ফেলে না দিয়ে নির্ধারিত পাত্রে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে। একই সঙ্গে নতুন তেলের সঙ্গে পুরোনো ব্যবহৃত তেল মিশিয়ে পুনরায় খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার না করার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সংগ্রহ করা ব্যবহৃত ভোজ্য তেল পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হবে। ফলে একদিকে খাদ্য তৈরিতে পোড়া তেলের পুনঃব্যবহার কমবে, অন্যদিকে ব্যবহৃত তেল সংরক্ষণ করে রাখার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা আর্থিক সুবিধাও পাবেন। প্রাথমিকভাবে প্রতি লিটার ব্যবহৃত ভোজ্য তেল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাজাপোড়ার কাজে ব্যবহৃত তেল বারবার ব্যবহার না করে যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধু ব্যবসায়ী নয়, ভোক্তাদেরও খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত তেলের মান ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। লোহাগড়ায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মিষ্টির দোকান, ফাস্টফুড, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ভাজাপোড়ার দোকানে ব্যবহৃত তেল পুনঃব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ব্যবহৃত তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রাথমিক পর্যায়ের এ কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও বেশি খাদ্য ব্যবসায়ীকে এর আওতায় আনা হবে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সম্মিলিত সচেতনতা এবং প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে পোড়া তেলের অনিরাপদ ব্যবহার বন্ধ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Link copied!