ধামরাইয়ের ধুলিভিটায় অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আলাল হোসেন (সজিব) , ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

ধামরাইয়ের ধুলিভিটায় অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ধুলিভিটা এলাকায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দিন দিন যানজট প্রকট হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে গাড়ি রাখা এবং অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধুলিভিটা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে কোনো নিয়ম না মেনেই অটোরিকশা চলাচল করছে। অনেক চালক সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের পাশে গাড়ি পার্ক করে রাখেন, যা স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত করছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চালকরা যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হতে কখনো কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। নিয়মিত চলাচলকারী এক শিক্ষার্থী জানান, যানজটের কারণে প্রতিদিন সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে চাকরিজীবীরাও সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ যানজটের কারণে ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ উভয়ই বাড়ছে। সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের অনেক সময় মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এলাকাবাসীর মতে, শুধু অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যাত্রী ওঠানামার নির্ধারিত স্থান এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ধুলিভিটা এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Link copied!