পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

মারুফ পারভেজ , নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতি রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি প্রত্যেককে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে জনসচেতনতার অভাব, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতাকে দায়ী করেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি এবং নিচু এলাকায় দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাপিতখালী খালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে খালটি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল, জলাশয় ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বৃক্ষনিধনের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতি রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা পরিবার ও সমাজে এ বার্তা ছড়িয়ে দিলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।

জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি খাল ও জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। সরকারি সম্পদের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধভাবে দখলে রাখতে দেওয়া হবে না। নেছারাবাদে চলমান উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সবশেষে তিনি নেছারাবাদবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নেছারাবাদ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন তালুকদার, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল হাসান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, নেছারাবাদ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা পলাশ, স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম বাহাদুর এবং নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জুবায়ের।

সিয়াম সরিষা
Link copied!