ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ইছাখালি বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার সংরক্ষণের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৩ টন ১৫০ কেজি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে অবস্থিত মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজে অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার সংরক্ষণের তথ্য পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের গুদামে থাকা বিভিন্ন ধরনের সার পরীক্ষা করে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি, ৪১ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা ইউরিয়া এবং ৭ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা সারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ টন ১৫০ কেজি।
অভিযানে পাওয়া অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও পরে তিনি নগদ অর্থ পরিশোধ করেন। অভিযান শেষে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ সার সিলগালা করে রাখা হয়েছে। এসব সারের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের ব্যবহারের জন্য বাজারজাত সারের মান, বৈধতা ও অনুমোদিতভাবে মজুদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেয়াদোত্তীর্ণ বা অবৈধভাবে মজুদ করা সার কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে সার বাজারে অনিয়ম রোধে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষি মৌসুমে সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ কৃষক। তাই অবৈধ মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সার বাজারজাতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :