চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বাসা থেকে হালিশহর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। ফেরদৌস হোসেন আরিফের স্ত্রী রওশন আরা রত্না জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। গত চার মাসে তার চোখের রেটিনায় তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর একটি হাসপাতালে তার চোখে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার তার চোখের ড্রেসিং ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ চিকিৎসা গ্রহণের কথা ছিল। তবে তার আগেই গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
রওশন আরা রত্না অভিযোগ করে বলেন, "আমার স্বামীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের নির্ধারিত ড্রেসিং ও জরুরি চিকিৎসা সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমরা পুলিশের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছিলাম যেন অন্তত ড্রেসিং সম্পন্ন করতে দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তিনি নিজে থানায় হাজিরা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে রাত ২টার দিকে ১০-১২ জনের একটি দল বাসায় ঢুকে তাকে নিয়ে যায়। শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ড্রেসিং না হওয়ায় চোখের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
এদিকে ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সাবেক এই জনপ্রতিনিধির আটকের খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফেরদৌস হোসেন আরিফকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বা আটকের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :