ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গভীর রাতে রেললাইন খুলে রেখে ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনকে লাইনচ্যুত করার ঘটনাটি এখন কেবল একটি অবকাঠামোগত নাশকতা নয়—এটি রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ৭ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে গফরগাঁও রেলস্টেশনের প্রায় দুই কিলোমিটার আগে সালটিয়া মাঠখোলা এলাকায় রেললাইনের প্রায় ২০ ফুট অংশ নাট খুলে সরিয়ে ফেলার ফলে ট্রেনটির লোকোমোটিভসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গফরগাঁও রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী বলেন, ভোর রাতে কে বা কারা প্রায় ২০ ফুট রেললাইন খুলে ফেলেছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। উদ্ধার ও মেরামতের কাজ চলছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, এটি স্পষ্টত নাশকতার ঘটনা। জিআরপি থানার এক কর্মকর্তা বলেন, রেল ক্লিপ ও নাট পরিকল্পিতভাবে খুলে নেওয়া হয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নয়। আমরা আলামত সংগ্রহ করছি এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্যে সতর্ক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার প্রকৃতি খুবই গুরুতর। কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাউকে আগেভাগে দায়ী করা ঠিক হবে না।
এই ঘটনার সময়কাল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। গত কয়েকদিন ধরে গফরগাঁও আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, রেললাইনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছেন। উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করি। এ ধরনের নাশকতার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”
এদিকে সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কিত। এক যাত্রী বলেন, এটা যদি একটু আরও গুরুতর হতো, হয়তো আমরা কেউ বাঁচতাম না।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো — রাজনৈতিক সংঘাত যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তখন তার প্রথম শিকার হয় সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো। তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত না হলে রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা যে আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলওয়ে যোগাযোগ ৭ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :