কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গরু ভাগাভাগি ও বাবার হজের টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের সুবিলারচর (পূর্ব পাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ মিয়া (৬৫) সুবিলারচর গ্রামের মৃত জাহেদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত ঘাতক ফয়েজ মিয়া (৩২) নিহতের বড় ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরুজ মিয়া জীবদ্দশায় তার তিন ছেলেকে আলাদাভাবে জমি বুঝিয়ে দেন। তবে শর্ত ছিল, ছেলেরা সম্মিলিতভাবে বাবার হজ পালনের জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করবেন। এ শর্ত পূরণ হলে তিনি নিজের মালিকানাধীন ছয়টি গরু তিন ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেবেন।
সোমবার বিকেলে বাবার হজের টাকা পরিশোধ না করেই বড় ছেলে ফয়েজ মিয়া গরু বিক্রির উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে সুরুজ মিয়া এতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়েজ মিয়া কাঠ দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেন।
আঘাতে গুরুতর আহত সুরুজ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে সুরুজ মিয়াকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জামিল খান বলেন, “গরু ভাগাভাগি ও পারিবারিক আর্থিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :