প্রেমিকার প্ররোচনায় প্রেমিকের আত্মহত্যা, বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন

এইচ, এম শহীদুল ইসলাম , পেকুয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কলেজছাত্র আসিফের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী প্রেমিকা নুরীর বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ২টায় পেকুয়া প্রেসক্লাব চত্বরে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও বন্ধু মহলের উদ্যোগে এই মানববন্ধন আয়োজিত হয়।

এ সময় এলাকাবাসী ও আসিফের বন্ধুরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইলাঘোনা এলাকার শাহেদের মেয়ে নুরীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে নিহত আসিফের ভাবী উর্মি বলেন, আসিফের সঙ্গে নুরী দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিল। পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ ও প্যানেল চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ আজাদের মাধ্যমে নুরীর বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, কিন্তু নুরীর বাবা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। ঘটনার একদিন আগে আসিফ ও নুরী পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছিল। পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়টি আসিফ আমাকে জানায়।

এমনকি নুরী তার থেকে বিয়ের জন্য বহু টাকার কাপড় ও জিনিসপত্র কিনে নেয়। নুরী বেশ কয়েকবার তাদের ঘরে চলে আসে, তারা তাকে অনুষ্ঠান করে আনবে বলে পুনরায় তার বাসায় পাঠিয়ে দিত। উর্মি বলেন, আসিফ তাদের আদরের ছোট ভাই ছিল। সে আমাকে বলেছিল, নুরীকে নিয়ে পালিয়ে যাবে, কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কিন্তু রাতে আসিফ ও প্রেমিকা নুরীর মধ্যে ভিডিও কলে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আসিফ প্রেমিকা নুরীকে ভিডিও কলে রেখে নুরীর প্ররোচনায় গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রেমিকা নুরী ও তার মা দীর্ঘদিন ধরে আসিফকে ভুলিয়ে বহু টাকা নিয়েছে। তারা প্রেমিকা নুরীর ফাঁসি দাবি করছেন প্রশাসনের কাছে।

নিহত আসিফের বন্ধু সম্রাট ও ছোটন বলেন, তারা জানেন, আসিফ ও নুরী দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করে আসছিল। আসিফ তাদেরকে জানিয়েছে, সে নুরীকে বিয়ে করবে। নুরীর বাবা রাজি হচ্ছে না। তারা পালিয়ে বিয়ে করবে। কিন্তু এই জঘন্য আত্মহত্যাকারী নুরী তাদের বন্ধু আসিফকে হত্যার প্ররোচনা দিয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় করে দিল। তারা দাবি করেন, এই নুরী বিভিন্ন ছেলেকে এভাবে মিথ্যা বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ছেলেদের জীবন নষ্ট করছে। তারা তার বিচার দাবি করছেন।

মানববন্ধনে নারী-পুরুষ ও কলেজছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আসিফ প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেন। মোহাম্মদ আসিফ (২১) উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকার সৌদিপ্রবাসী সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

Link copied!