কুমিল্লায় নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

মোঃ আরিফুল ইসলাম ফারহান , কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নিখোঁজের ১২ দিন পর অটোরিকশা চালক আলাউদ্দিন (৩৫)-এর মরদেহ একটি খাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের খোষঘর এলাকার হিরাপুর কবরস্থান সংলগ্ন বুড়ি নদীর মোহনা খাল থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর কচুরিপানার নিচে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘাতকরা কচুরিপানা দিয়ে মরদেহটি ঢেকে রাখে।

নিহত আলাউদ্দিন দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মো. সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন ফুলতলী গ্রামের একটি ওয়ার্কশপে তার অটোরিকশা মেরামত করাতে যান। কাজ শেষ না হওয়ায় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মেকারকে জানান, পরদিন বাকি কাজ করাবেন এবং আপাতত যাত্রী নিয়ে ভাড়ায় যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

সোমবার বিকেলে খোষঘর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে কচুরিপানা সরিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। পরে নিহতের স্বজনরা তার পরনের পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন।

আলাউদ্দিনের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার। নিহতের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার স্বামীর মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার স্বামী কারও ক্ষতি করেনি। শুধু সংসারের জন্য কাজ করত। এখন আমার তিনটি ছোট বাচ্চা নিয়ে আমি কোথায় যাব?"

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি দেবিদ্বার থানায় করা হয়েছিল, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সেখান থেকেই পরিচালিত হবে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!