সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে আ.লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

রেজাউল করিম রেজা / মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা মৌজাধীন চরপাতরগাড়া মাজ্জ্যারটেক এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মালিকানাধীন সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কর্ণফুলী থানাধীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ জুন ‘সৌন্দর্য বর্ধন’-এর নামে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) থেকে একটি এনওসি নেওয়া হলেও ওই অনুমোদনে কেবল গাছ লাগানো, উন্মুক্ত স্থান সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়নের মতো সীমিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ ছিল। তবে অনুমোদনের শর্ত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের নকশা অনুমোদন ছাড়াই সেখানে একাধিক অননুমোদিত সেমিপাকা, একতলা এবং ৬/৭ তলা বিশিষ্ট বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে এভবনের দোকান ও কক্ষ ভাড়া দিয়ে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জমির বিবরণ : 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত স্থাপনাটি চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা মৌজার:

আরএস দাগ নং: ১৪৬১ (অংশ), ১৪৬২ (অংশ), ১৪৫৯ (অংশ)

এবং বিএস দাগ নং: ১৪৭৫ (অংশ) ও ১৪৬০ (অংশ)

এর তপশিলভুক্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমিতে অবস্থিত।

অননুমোদিত স্থাপনার বিবরণ: 

উক্ত জমিতে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই সেমিপাকা ভবন, একতলা ভবন এবং প্রায় ১৮ মিটার উচ্চতার বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা বিদ্যমান আইন ও সিডিএ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২০ আগস্ট উক্ত অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য সিডিএ কর্তৃপক্ষ লিখিত নির্দেশ প্রদান করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে, এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি  আব্দুল মান্নান তিনজনের নামে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।  নোটিশে সংবাদের বাইরের অসংগত তথ্য উল্লেখ করে ৭ দিনের মধ্যে জবাব না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পুলিশের খাতায় তারা পলাতক থাকলেও নিয়মিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে সিএমপির কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ---- জানান, ২০২৩ সালে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুলায়মান তালুকদারের স্বাক্ষরিত ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে আব্দুল মান্নান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই তালিকা তার কাছে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে স্থানীয়রা অবিলম্বে সিডিএ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ, জমি পরিমাপ, নথিপত্র যাচাই এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কর্ণফুলী থানার ওসি শাহিনুর আলম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও মামলা রয়েছে।

Link copied!