ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজিদের আইনের আওতায় আনতে ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা পুলিশ। জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল রহমান এবং পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান-এর উদ্যোগে এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ নগরীসহ জেলা জুড়ে সালিশ দরবারের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জরিমানা আদায়, থানায় দালালি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র জেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় অর্থ আদায় করছে। একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তি দলীয় পরিচয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও টাকা আদায় করছে। এঘটনায় সংশ্লিষ্টদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের এক কর্মকর্তা।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে—এমন তথ্য প্রশাসনের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক নারী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পুলিশ।
ময়মনসিংহ নগরীসহ জেলা জুড়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ-আল মামুন।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা জজকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আবু সাদাত আবুল খায়ের । স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে তারা বলেন, প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে অপরাধ দমনে সুফল মিলবে।
আপনার মতামত লিখুন :