অভিযোগের পরও দপ্তরে ফিরলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০২ পিএম

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সুজানগরে ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে বলে দাবি করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই মাসে অভিযোগগুলো তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ভুয়া বিল ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে পুনরায় স্বপদে বহাল হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মামলার নথিপত্রের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অনৈতিক ইঙ্গিত, হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এর জেরে ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর: ১৪২/২০২৩)।

প্রশাসনের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শেষে বরখাস্ত হলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় দপ্তরে ফিরে আসেন। বর্তমানে ফরিদপুর সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে তার প্রভাব আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রতিবেদকদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় তার সর্বশেষ দায়িত্বকালীন সময়েও কয়েকজন নারী কর্মচারীর পক্ষ থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরে পদায়িত থাকলেও তিনি খুলনায় অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। একই বিষয়ে মো. আবদুল আউয়াল, প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!