আব্দুল হালিমের সম্পদের হিসাব: নথিতে যা উঠে এলো

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

হাসান হাবিব: গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর ই/এম ডিভিশন-১০, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিমকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। একটি লিখিত অভিযোগে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিমের পারিবারিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তার বাবা আনোয়ার হোসেন পিডিবিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল হালিমের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ক্রয় করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার নামে দুটি বাড়ি ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভুয়া বিল, নিম্নমানের কাজ এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ লিফট সংযোজন প্রকল্পে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ প্রকল্পে কারিগরি ত্রুটি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও বিচারাধীন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক কারণে অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং এতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আস্থার পরিবেশ জোরদার হবে।

Advertisement

Link copied!