পুলিশ প্রশাসনে সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ফাঁস!

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

শায়লা শারমিন চৌধুরী: পুলিশের মাঠপর্যায়ের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ও সমালোচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা এই বিতর্কে সংযুক্ত হয়েছেন। অভিযোগ এসেছে, গত ১৮ মাস ধরে তারা একটি বিশেষ দলের পক্ষে বৈষয়িক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও ডিএমপির ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা পাওয়া কর্মকর্তারাও রয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাতারাতি তারা একটি দলের পক্ষে সক্রিয় হয়ে দায়িত্বশীল বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা ৩৩ জন পুলিশ সুপার গত ১৮ মাস ধরে অন্য একটি দলপন্থী হিসেবে কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে জামায়াতকে জয়ী করতে তৎপর ছিলেন। নির্বাচনের আগে এই ৩৩ পুলিশ সুপার ৩৩টি জেলায় বদলি হয়ে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্লিখিত জেলাগুলো হলো: গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, মেহেরপুর, বরিশাল, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা।

৬৪ জেলার মধ্যে এখনও আটটি জেলার পুলিশ সুপার আওয়ামীপন্থী হিসেবে চিহ্নিত—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সর্বোচ্চ সুবিধা ও পদোন্নতি পেয়েছেন। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পুনর্মূল্যায়ন না করে দায়িত্বে রাখায় বাহিনীতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময় বিএনপিপন্থী পুলিশ সুপার রয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশে বিভিন্ন স্তরে আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী ও জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, কিছু কর্মকর্তা সব আমলেই রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। মধ্যপন্থী ও সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তার নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

অভিযোগ অনুসারে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একজন বিশেষ সহকারী ও পুলিশ অধিদপ্তরের সাবেক একজন ডিআইজি একটি সিন্ডিকেট গঠন করে পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে ২৯০ কোটি টাকা দুর্নীতি মাধ্যমে অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে দুদকসহ দুটি সংস্থা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। 

ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক সংস্কারই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।

Advertisement

Link copied!