মোবারক হোসেনের সম্পদ সাম্রাজ্য: নথিতে যা উঠে এলো

অনিক খাঁন , সিনিয়ির রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২ বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে রাজধানীতে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লটসহ গ্রামের বাড়িতে বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মহাখালী জোন-৪-এ অথরাইজড দায়িত্বে থাকা অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযানের চিঠি ও উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মার্কেট পরিচালনা কমিটি, ডেভেলপার কোম্পানি ও ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক প্ল্যান অনুমোদন এবং উৎকোচের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানের নামে নামমাত্র স্থাপনা ভেঙে পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, অতীতে মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রীর সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই ২০২৩ তারিখে পুনরায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান নোটিশ জারি করা হয়। অনুসন্ধান কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকে জমা দেওয়া এক আবেদনে রাজধানী ও গ্রামের বাড়িতে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও জমির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেন, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নামে মূল্যবান গাড়ি ও ব্যাংক জমার তথ্যও তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ প্রমাণের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। তবে এ নিয়ে ভেতরে-বাইরে আলোচনা রয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি রক্ষায় সহায়ক হবে।

Advertisement

Link copied!