চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় সাংবাদিক ইয়াকুব আলীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. সজীব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশনায় কথিত কিছু বিএনপি কর্মীকে ব্যবহার করে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তার পরিবারের ওপর একাধিকবার মব সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইয়াকুব আলী স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি সুরানপুরে যান। দুই দিন পর বাড়ি ফেরার সময় শ্বশুর মাজেদ শাহ, রানাউল ইসলাম রানা ও তাদের সহযোগীরা তার স্ত্রীকে আটকে রেখে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে ১৫ ডিসেম্বর স্থানীয়দের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে তাকে বাধা দিয়ে হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১৭ ডিসেম্বর ভোলাহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা সজীব তাকে স্ত্রীর কাছে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার পর সেদিন রাতেই বাড়ি ফেরার পথে ফুটানি বাজার এলাকায় তাকে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শেষে ২৮ জানুয়ারি ভোলাহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর-৬)। অভিযোগে বলা হয়, হামলায় কথিত কিছু বিএনপি কর্মীকেও ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ উকিল বারের সামনে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ভোলাহাটের সুরানপুর এলাকায় তার পরিবারের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তার পিতাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, সাংবাদিক ইয়াকুব আলী অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, ইয়াকুব আলী বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে একাধিকবার হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর আগেও ২০২৫ সালের ৯ মে তাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :