ক্যাশ মেমোবিহীন ডিজেল পাচারের অভিযোগ, এসি ল্যান্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর বাজারের মেসার্স বসাক অ্যান্ড কোং থেকে ক্যাশ মেমো ও চালানবিহীন চার ব্যারেল ডিজেল পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিমুলিয়া সড়কে পাচারকালে স্থানীয়রা ডিজেলবাহী ট্রলিটি আটক করলেও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈমের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই পার পেয়ে যান অভিযুক্তরা।

স্থানীয়রা জানায়, হরিরামপুর উপজেলার গোপিনাথপুর এলাকার বাবু বেপারি একটি ট্রলিতে করে প্রায় ১ হাজার লিটার (৪ ব্যারেল) ডিজেল নিয়ে মহাদেবপুর-শিমুলিয়া সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। চালকের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ট্রলিটি থামিয়ে সাংবাদিকদের খবর দেয়। সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে চালকের কাছে তেলের বৈধ কাগজ ও ক্যাশ মেমো দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। চালক জানান, মেসার্স বসাক অ্যান্ড কোং থেকে এই ডিজেল নিয়ে তিনি এন্তাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শহিদের ভাতিজা রাসেলের দোকানে যাচ্ছিলেন।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈমকে জানানো হয়। তবে তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ডিলারের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "হয়তো ডিলার ভুল করে মেমো দেয়নি।" কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই তিনি ডিজেলসহ ট্রলিটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণে হতবাক হয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সেচ কাজের জন্য আমরা ডিলারের কাছে গেলে ডিজেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে মেমো ছাড়া ডিজেল পাচার হচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হলো না, বরং তারা অভিযুক্তদের রক্ষা করছে।"

পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে ডিজেল সরবরাহ করা অবৈধ। কিন্তু মহাদেবপুর বাজারের মেসার্স বসাক এন্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী রাজু প্রথমে ঘটনার দায় স্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পথচারী চলাচলরত লোকজন বলেন, (৪ ব্যারেল) ডিজেলবাহী ট্রলিটি এন্তাজগঞ্জ পার হয়ে হরিরামপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার দিকে চলে যেতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য অনুসন্ধানে গিয়ে এন্তাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শহিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানান, তার ভাতিজা দোকানে এক মাসের বেশি সময় ধরে ডিজেল নেই। আজও তেল সরবরাহ করা হয়নি। বরং তাদের নাম ব্যবহার করে অন্য কোথাও তেল পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততা ও দায়িত্বহীনতায় এলাকায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Advertisement

Link copied!