নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতনের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই ওই শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষকদের রক্ষায় একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ অজুহাতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের ডাস্টার দিয়ে শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে (১১) বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক দীপক কুমারও একই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। গত ৬ এপ্রিল নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মূলত প্রাইভেট পড়ার চাপ থেকেই এই নির্যাতনের সূত্রপাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিমুল নামে এক যুবক লিখেছেন, “প্রাইভেট না পড়ায় ওই ছাত্রকে টার্গেট করে নির্যাতন করা হয়েছে।” টিপু নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ঘটনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে এলে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে একটি প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং বাসা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে শিশুটির পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তদন্ত কমিটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপরাধ এক শিশুর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন লোহাগড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ।
আপনার মতামত লিখুন :