মানিকগঞ্জে গর্ভের সন্তান নষ্ট: আসামি গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বৈন্যা গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর সন্তানসম্ভবা হওয়া ওই নারীর অনাগত সন্তান হারানোর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২২ মার্চ রবিবার সকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রূপচান ও তাঁর ভাইদের বসতবাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলায় বাধা দিতে গেলে ১১ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নাসরিন আক্তারের পেটে লাথি মারে হামলাকারীরা। এতে তাঁর দেড় মাসের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় নাসরিন ছাড়াও আলমগীর, সাথী আক্তার ও লতিফা বেগম আহত হন। তাঁদের মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনায় বর্তমানে আদালতে ও থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

প্রথমে ভুক্তভোগী রূপচান বাদী হয়ে ২২ মার্চ দৌলতপুর থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার আসামিরা হলেন— ইয়াসিন আলী (৪১), শাকিল রানা ওরফে ইয়াদ আলী (৩২), ইয়াকুব আলী (৩০), আলামিন (৩৫), জুলহাস মিয়া (৩০), মনির হোসেন (৩৬), মুক্তার হোসেন (৩৪), আদারী শেখ (৬০), আবুল কালাম (৬০), শাহাজাহান আলী (৫৫), শিবলু হোসেন সাইদুর (৩৫), আখি আক্তার (৩৩), নজিরন (৫৫), বায়লা বেগম (৫৫), মিনা বেগম (৩০), মাছুমা (২৫), আব্দুল লতিফ (৫০), জবেদা খাতুন (৫০), ইউনুছ (৫০), হাফিজুর ওরফে ভিক্ষে (৩৫) ও মোসা মোল্লা (৪৬)। এছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলাটি আদালতে দায়ের করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দৌলতপুর থানার ওসিকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। এই মামলার আসামিরা হলেন— মো. শাকিল রানা ওরফে ইয়াদ আলী, মো. ইয়াছিন আলী (৫০), মো. ইউনুছ (৫০), মো. আবুল কালাম (৬০), মো. আদারী শেখ (৬০) ও মো. মনির হোসেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয় এবং বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নাসরিন আক্তার বলেন, "১১ বছরের অপেক্ষার পর সন্তানসম্ভবা হয়েছিলাম। কিন্তু পৃথিবীর আলো দেখার আগেই আমার সন্তানটি হারিয়ে গেল। এখন স্বামীর কাছে আমি কী জবাব দেব? আমি এই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, "আদালত থেকে ওয়ারেন্টের কাগজপত্র এলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।"

আহত নাসরিন আক্তারের পরিবার ও স্বজনরা এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!