ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যখন বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে, তখনও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বামনদহ এলাকায় কয়েকটি অসহায় পরিবার গত দুই বছর ধরে অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করছে। ধার-দেনা করে বসতভিটা গড়ে তুললেও এখনো তারা পাননি বিদ্যুৎ সংযোগ। বারবার আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোঃ ফিরোজ ইসলাম, মোঃ আব্দুল গফুর, মোঃ আমিরুল ইসলাম ও মোঃ সেলিম হোসেন—সবাই পেশায় দিনমজুর। তাদের বাড়ি থেকে নিকটস্থ বৈদ্যুতিক খুঁটির দূরত্ব মাত্র ১৫০ ফুট। এরপরও ‘দূরত্ব বেশি’—এই অজুহাতে তাদের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ভ্যাপসা গরম ও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে এসব পরিবারের সদস্যরা। শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, আর অন্ধকারের সুযোগে এলাকায় অসাধু লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফিরোজ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে আবেদন ফি জমা দিয়েছি। কিন্তু আমাদের বলা হচ্ছে বাড়ি নাকি অনেক দূরে। অথচ একই এলাকায় ‘বুলির বাড়ি’সহ অনেক জায়গায় ৮০০ গজ দূর থেকেও সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা কি গরিব বলে বিদ্যুৎ পাব না?”
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (আরই) সহিদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা আমার বিরুদ্ধে ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বলে শুনেছি। আমি তাদের কয়েকবার ডেকেছি, কিন্তু তারা আসেনি। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে কাজ করছে এবং নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীরা সংযোগ পাবেন।
এদিকে, ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, যেখানে অধিক দূরত্বে থেকেও অন্যরা সংযোগ পাচ্ছেন, সেখানে মাত্র ১৫০ ফুট দূরে থেকেও তারা কেন বঞ্চিত হবেন—তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চান তারা। অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :