যশোরের কেশবপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার নিশ্চিত এবং সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল ২০২৬) রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর উদ্যোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণশুনানিতে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের সরব অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গণশুনানির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তাদের প্রতিনিধিরা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে শুনে জুরিবোর্ড সদস্যরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেন।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোপ প্রকল্পের প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর অ্যাডভোকেট রুহী নাজ বলেন, “মানবাধিকার সুরক্ষায় শুধু আইন থাকলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের গণশুনানি জনগণের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।”
সভাপতির বক্তব্যে কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, গণশুনানি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের কথা বলতে পারে। এতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোছা: আনজু মনোয়ারা এবং উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানী। তারা উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
জুরিবোর্ড পরিচালনায় অংশ নেন এসআই সঞ্জয় রায়, মানবাধিকার কর্মী মোঃ মুনসুর আলী, সমাজসেবা সুপারভাইজার মাহবুব রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিইব-হোপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী খালিদ হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন রিইব-হোপ প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোখলেসুর রহমান পিন্টু।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এই শুনানিতে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণশুনানি একটি কার্যকর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, যা ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এই উদ্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা মনে করেন।
আপনার মতামত লিখুন :