সুন্দরবনে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে ‘অপারেশন রেস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং বন অপরাধ দমনে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড’ শীর্ষক বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
জোনাল কমান্ডার জানান, গত ১৮ মাসে সুন্দরবন ও সাগর উপকূলীয় এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ‘করিম-শরীফ’, ‘নানা ভাই’, ‘ছোট সুমন’, ‘আলিফ’ ও ‘আসাবু’ বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দস্যুদের কবল থেকে অপহৃত ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও জানান, দস্যু দমনের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। গত দেড় বছরে ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস এবং ৯০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এসব অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনে দস্যুতা ও বন অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান দুটি অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের সকল বাহিনীর সমন্বিত এই অভিযানে কোস্ট গার্ডের ১৭টি স্টেশন থেকে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কোস্ট গার্ডের এই তৎপরতা সাধারণ জেলে ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন :