নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে শোকজ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ও দীপক কুমারের বিরুদ্ধে। গত ৬ এপ্রিল স্কুল চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের ডাস্টার দিয়ে শিক্ষার্থীকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে ১ এপ্রিল একই শিক্ষার্থীকে অপর শিক্ষক দীপক কুমারও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
ঘটনার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনিমেষ কুমারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে ৮ এপ্রিল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের শোকজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে বদলি বা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা উত্তম হালদার বলেন, “পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” মা পল্লবী জানান, “আমার ছেলে এখন আতঙ্কে আছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। তার শরীরে এখনো মারধরের চিহ্ন রয়েছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগেও সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা মানেননি।”
আপনার মতামত লিখুন :