দাগনভূঞা উত্তর আলীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের চার বছরের দুর্নীতির বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের তদন্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
২০২০-২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বর্তমান সহকারী প্রধান এনামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের চার বছরের হিসাব নয়-ছয় করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গণমাধ্যমকর্মীরা গেলে তাদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অডিও কল করেও একই প্রস্তাব ও প্রলোভন দেওয়া হয়। এসব অডিও-ভিডিও ভাইরাল হলে জাতীয় ও ফেনীর অধিকাংশ দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। ঘুষের প্রস্তাব পাওয়া তিনজন গণমাধ্যমকর্মী, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
সহকারী প্রধানের ঘুষ প্রদানের চেষ্টা এবং প্রধান শিক্ষকের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া তিনজন গণমাধ্যমকর্মী—শাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম ও জিয়া উদ্দিন বলেন, "সব জায়গায় শুভঙ্করের ফাঁকি! এত বড় একটি অপরাধ, অডিও-ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে যাব, কিন্তু এই অপরাধ-অপকর্মের বিচার হতেই হবে। না হলে দুর্নীতিবাজ শিক্ষক দুর্নীতিবাজ জাতি উপহার দেবে।"
দাগনভূঞা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনকে অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি ভুলেই গেছেন মর্মে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বলেন, "এটা তো ইউএনও স্যার দেখছেন।"
অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে স্কুল সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলামকে কয়েকবার অগ্রগতির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে জানান, "এটা নিয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে বসব।" কিছুদিন পর তিনি আবার জানান, "বিষয়টি এসবিকে তদন্ত করার জন্য দেওয়া হয়েছে। এসবি হয়তো আপনাদের কাছেও যাবে।" গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন এই বিষয়ের আপডেট জানতে চাইলে তিনি অনেকটা অবাক হন এবং বলেন, "এই বিষয় এখন আবার! ঠিক আছে দেখতেছি" বলে অনেকটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আরও জানান, সহকারী শিক্ষক এনামুল হক তার কাছে বিগত চার বছরের হিসাব প্রদান করেছেন।
কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা মনোভাবে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, "স্কুল শিক্ষক হয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে গণমাধ্যমকর্মীদের ঘুষ প্রদানের চেষ্টা কি কোনো অপরাধ নয়? এই অপরাধকে কেন এত ছোট করে দেখা হচ্ছে? কেন এই অপরাধকে জায়েজ করতে কর্তৃপক্ষ এত গড়িমসি করছে? তারাও কি মুখে ঘুষ নিয়ে দুর্নীতি-অপকর্মকে প্রশ্রয় দিতে চুপ হয়ে আছেন?"
আপনার মতামত লিখুন :