ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার ওপর দুই দফা নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ছাত্রদল নেতা রহমতউল্লাহ টেঁটা বিদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর বাবা ও বড় ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমতউল্লাহ তাঁর ফেসবুক আইডিতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি জনসচেতনতামূলক পোস্ট দেন। এতে কারো নাম উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় এক মাদক কারবারি চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফরহাদ, আলমগীর ও কাদিরসহ কয়েকজন রহমতউল্লাহর গতিরোধ করে প্রথম দফায় হামলা ও মারধর করে।
প্রথম দফার হামলা থেকে বেঁচে রহমতউল্লাহ বাড়িতে আশ্রয় নিলেও রাত ৯টার দিকে ২০-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে রহমতউল্লাহকে টেঁটা বিদ্ধ করে এবং তাঁর বাবা মতিউর রহমান ও বড় ভাই রুহুল আমিনকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা নয়টি বসতঘরে ভাঙচুর চালায় এবং একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় রহমতউল্লাহর বোন জামাই হবিউর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আলমগীর, ফরহাদ ও জাহাঙ্গীর নামে তিনজনকে আটক করেছে।
হামলার নেতৃত্বে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, "ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, আমি বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু রহমতউল্লাহর বাবা রাজি হননি। তবে আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।"
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, “ফেসবুকে মাদক সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটককৃত তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :