রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে বোয়ালিয়া থানাতেই বহাল থাকার জন্য তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তদবীর চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সম্প্রতি এসআই মিজানের বদলির আদেশ জারি হলেও তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে (বেলপুকুর থানায়) যোগদান করেননি। বরং বোয়ালিয়া থানায় বহাল থাকার জন্য প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন।
মিজানের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ করে মামলার তদন্তে পক্ষপাতমূলক ও মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, তদন্তের নামে হয়রানি ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এসআই মিজান দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালিয়া থানায় কর্মরত থাকার কারণে তার সঙ্গে মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সখ্যতা গড়ে উঠেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পুলিশ সদস্য দীর্ঘ সময় একই থানা বা জেলায় কর্মরত থাকলে স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।
এছাড়াও র্যাবে কর্মরত না থাকলেও এসআই মিজান তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে র্যাবের পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করছেন।
র্যাবের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া বা হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার নিষিদ্ধ। অন্য কোনো বাহিনীতে কর্মরত থাকলে এ ধরনের ছবি ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএমপির নব্য পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির প্রতিটি থানাকে “জিরো কমপ্লেইন” থানা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। কিন্তু এসআই মিজানের এমন কর্মকান্ড ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে আরএমপি মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমানকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :