ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য লিটন মেম্বারের বিরুদ্ধে গরিব ও অসহায় জেলেদের সরকারি চাল আত্মসাৎ, অনিয়ম, দখলবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কার্ডধারী জেলে ও এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে জেলেদের জন্য দুই দফায় মোট ১৫৭ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও সব কার্ডধারীকে মাত্র ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বহু প্রকৃত জেলে কোনো চালই পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সুবিধা বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও নয়ছয় করা হয়েছে।
বর্তমান পরিষদের কোন সদস্য না হয়েও কিভাবে তিনি জেলেদের কার্ড আবদ্ধ করে রেখে অন্যজনকে দিয়ে চাল আনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সাবেক এই মেম্বারের কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও একপর্যায়ে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের নির্দেশে কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। তবে এলাকায় ফিরে এলেই নতুন করে কোনো না কোনো ঘটনার জন্ম দিতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
কিছুদিন আগে তেল সংকটের সময়ও দোকানীর তেল নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে বিক্রি ও সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং দোকানীর হিসেবের খাতা জোর করে জব্দ করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, জেলেরা পরিষদ থেকে চাল উত্তোলনের পর রাতের আঁধারে তাদের কাছ থেকে জোর করে চালের একটি অংশ নিয়ে যেতেন সাবেক এই মেম্বার। আবার অনেক জেলেদের সাথে পরিষদ থেকে চাল আনার পর অর্ধেক তাকে দেওয়ার দাবি করে বা সমঝোতায় চাল খেতে হবে বলে হুমকি দিতেন।
এ ঘটনায় সাধারণ জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৫ আগস্টের আগে মামলা দিয়ে হয়রানি আগস্টের পর নিজ চাচাতো ভাইদের জমি দখলের চেষ্টা ও পারিবারিক জমিজমা নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সামান্য বিরোধ বা মতবিরোধ হলেই থানায় মামলা দেওয়াকে তিনি পুরোনো অভ্যাসে পরিণত করেছেন।
অন্যদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে "মিলন নামের" একটি আইডি থেকে তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা দেখা গেছে। কয়েকটি পোস্টে তার বিরুদ্ধে অতীতের নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতের জন্য নারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পোস্টকারীরা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আগেও নারী কেলেঙ্কারির এমন অসংখ্য অভিযোগ ছিল এবং এখনো তিনি বিতর্কিত আচরণ থেকে সরে আসেননি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি তদন্ত করে দেখার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
শুধু তাই নয়, নিজ দলের নেতাকর্মীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর দাবি, গত ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত খরচের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় বিজয় মিছিল শেষে কর্মীদের টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয় সাবেক লিটন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা, নির্বাচনী কোন ফান্ড ই ছিল না। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার করছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান- এই বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি, কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :