পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কুরবানির পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন খামারে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবার চাহিদার তুলনায় বেশি পশু রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ফলে বাইরের জেলা থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চূড়ান্ত জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর কালিয়াকৈরে কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ১৯ হাজার ২৭৪টি পশু। এর মধ্যে গরু ও বলদ ৮ হাজার ৩১৪টি, মহিষ ১৩১টি, ছাগল ১০ হাজার ৬৭১টি এবং ভেড়া ২৫৭টি। উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু লালন-পালন করছেন। সারি সারি গোয়ালে মোটাতাজা গরু, উন্নত জাতের ষাঁড় ও দেশি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুরবানির বাজারের জন্য। বিশেষ করে হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল জাতের গরুগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার ও চিকিৎসার মাধ্যমে পশুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।কালিয়াকৈরের সাহেবাবাদ এলাকার খামারি হাজী আকরাম জানান, তার খামারে এবার কুরবানির জন্য ৪০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। সবগুলোই দেশি ও শাহিওয়াল জাতের। গত চার মাস ধরে গরুগুলোকে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্রেতারা যেন ন্যায্যমূল্যে সুস্থ ও ভালো মানের পশু পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”অন্যদিকে সূত্রাপুর এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, তার খামারে ৮টি মোটাতাজা ষাঁড় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিটি গরু স্থানীয় হাটে সরাসরি বিক্রি করব। ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অতিরিক্ত দাম বাড়ার সুযোগ থাকবে না।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন,“এবারের কুরবানির পশুর বাজারকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে আসা প্রতিটি পশু ভেটেরিনারি টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। কোনো পশুর শরীরে ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে কি না বা কোনো রোগ আছে কি না তা যাচাই করা হবে। অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে না।
”তিনি আরও জানান, কুরবানির হাটগুলোতে দুইজন করে পশু চিকিৎসকের সমন্বয়ে তিনটি ভেটেরিনারি টিম গঠন করা হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে বিনামূল্যে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন সুস্থ পশু কেনা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় খামারিরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন :