ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১, চন্দ্রায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

তুষার আহম্মেদ , কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট ও ভোগান্তি বেড়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া ও গোয়ালবাতান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে হামিম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কাভার্ডভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নাওজোড় হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, “ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোয়ালবাতান এলাকায় বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

”এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকেই কালিয়াকৈরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। ঢাকা, গাজীপুরের শফিপুর, মৌচাক, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক ও চাকরিজীবীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং যানবাহনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

যাত্রী মো. সাইফুর রহমান  বলেন, “সকালে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো বাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভাড়াও আগের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে।”আরেক যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “ঈদের আগে সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছে বলে প্রচণ্ড ভিড়। ছোট বাচ্চা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”যাত্রী আব্দুল বাছেদ মিয়ার অভিযোগ, কিছু কিছু পরিবহন অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন,“ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”স্থানীয়দের ধারণা, ঈদের ছুটি যত ঘনিয়ে আসবে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

Advertisement

Link copied!