গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানার মিরের বাজারে প্রকাশ্যে পঁচা ও বাসি গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি অসাধু কসাইচক্র নিম্নমানের ও পঁচা মাংস ভালো মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এতে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শত শত পরিবার।
জানা যায়, মেঘডুবি এলাকার এক ব্যক্তি মিরের বাজারের শহীদুল্লাহর দোকান থেকে গরুর মাংস কিনে বাসায় নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা মাংস থেকে দুর্গন্ধ পান। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাজা মাংসের সঙ্গে বাসি ও পঁচা মাংস মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ ওই ক্রেতা পুনরায় দোকানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান ও ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভাইরাল ভিডিওর মন্তব্য থেকেই উঠে আসে আরও ভয়ংকর অভিযোগ। রাকিব সিকদার নামে এক ভুক্তভোগী মন্তব্য করেন, “এরা দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের মাংস বিক্রি করছে, আমিও প্রতারিত হয়েছি।” শাহিন নামে আরেকজন লিখেছেন, “মিরের বাজারের এই কসাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পঁচা মাংস বিক্রি শুধু প্রতারণাই নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মাংস খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, কিডনি জটিলতা ও মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। অথচ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাজারগুলোতে বছরের পর বছর ধরে চলছে এই “নীরব বিষবাণিজ্য”।
মিরের বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফজলু মোল্লা বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত কসাই শহীদুল্লাহ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাংসের মধ্যে চর্বি (তেল) বেশি ছিল, এজন্য একটু সমস্যা হয়েছে।”এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; পুরো বাজারজুড়ে ভেজাল ও পঁচা মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :