জমে উঠেছে বসুরায়ের শতবছরের পুরোনো শীতলা পূজা

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরা গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শীতলা তলা। জৈষ্ঠ্যমাস এলেই এই স্থানজুড়ে শুরু হয় ধর্মীয় আবহ, ভক্তদের আনাগোনা এবং গ্রামীণ উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতি বছর জৈষ্ঠ্যমাসের শনিবার ও মঙ্গলবার দেবতা সম্পত্তিতে অনুষ্ঠিত হয় শীতলা পূজা, যা শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, শীতলা দেবীর কৃপায় নানা বিপদ-আপদ ও রোগব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে। সেই বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে পূজা, মানত ও প্রার্থনায় অংশ নেন। গাজীপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এ পূজায় যোগ দিতে আসেন। ফলে পূজাকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

পূজাকে কেন্দ্র করে বসে নানা ধরনের দোকানপাট ও গ্রামীণ মেলা। খেলনার দোকান, মিষ্টির দোকান, বিভিন্ন খাবারের স্টল, রঙিন বেলুন, চটপটি-ফুসকা, শরবত, সানা, সন্দেশ, জিলাপি, নিমকি এবং জৈষ্ঠ্যমাসের মৌসুমি ফলের সমাহারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শীতলা তলা এলাকা। শিশুদের জন্য থাকে নানা বিনোদনের সামগ্রী, যা মেলায় আগত পরিবারগুলোর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এখানে পাঠাবলি ও কবুতর উৎসর্গের প্রচলনও রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের মানত পূরণে নানা আয়োজন করে থাকেন। ভক্তদের ভিড়, ধূপ-ধুনোর গন্ধ, ঘণ্টাধ্বনি ও ব্রাহ্মণদের দ্বারা ভগবানের কাছে প্রার্থনার সুর মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক ভিন্নধর্মী আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

এ আয়োজনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে রয়েছে  ভূপেন্দ্র চন্দ্র দাস -এর নেতৃত্বে প্রদিপ কুমার  রিপণ মাস্টার  ৩২নম্বরওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী   অমিত কুমার নূপুর সহ একটি দক্ষ মেলা পরিচালনা কমিটি। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও দর্শনার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এই পূজা ও মেলা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার সামাজিক বন্ধন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শত বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে বসুরা গ্রামের শীতলা তলা আজও ধর্মীয় বিশ্বাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে।

 

Advertisement

Link copied!