গাজীপুরে চ্যানেল এস-এর সাংবাদিককে নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ৫

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ জুন, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন মালেকের বাড়ি এলাকায় ভয়াবহ ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বকl আবাসিক হোটেলের ভেতরে নিয়ে মারধর, বিবস্ত্র ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর একাধিক সাংবাদিক খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনাটি ঘটে মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কথিত “কবির আবাসিক হোটেল”-এ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে ফেরার পথে সাংবাদিক জাকারিয়া সিকদার জানতে পারেন, উক্ত হোটেলে কিছু ছেলে-মেয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরে তিনি সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে সেখানে গেলে হোটেলের ভেতরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে কিল ঘুসি লাথি মেরে মাটিতে ফেলে  হত্যার  উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে পাঁচজন যৌনকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একইসঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসময় সঙ্গবদ্ধ চক্রটি  তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “মামলা করলে এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানান, কথিত এ আবাসিক হোটেলটি বন্ধের জন্য আমরা  অনেক প্রতিবাদ করিছি। কিন্তু এই সঙ্গবদ্ধ চক্রটি এত শক্তিশালী এটা বন্ধ করতে পারি নাই। এ অভিযানে গাছা থানাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এরকম অভিযান যাতে সবসময় চলমান থাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে এসআই সুকান্ত কুমার পালসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার মিজান মিয়ার ছেলে মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার ফালু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২৯), বগুড়া জেলার নন্দিগ্রাম থানার আব্দুল হান্নানের ছেলে মধু (২০), কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার হান্নান আলী মীরের ছেলে শাহ আলম মীর (৪৬), গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার চাঁদপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)। এ ঘটনায় জাকারিয়া সিকদার বাদি হয়ে গাছা থানায় একটি মামলা রুজু করেন। মামলা নং ৪৭(৫)২০২৬

এ বিষয়ে গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

Link copied!