প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয়

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও কারিগরি দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা খাতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন, যা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ এবং ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় চালু হবে। একই বছর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিক্ষা)।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। নতুন বিষয়গুলো শুধু পাঠ্যসূচির সংযোজন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা।

তিনি জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ, আচরণ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এ কোর্সের আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষণ-পদ্ধতির উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের মধ্যেই একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সংযোজন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতেও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক পরিমার্জন আনা হবে। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে নতুন বিষয় যুক্ত করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বইয়ে বড় ধরনের সংশোধন করা হবে।

নতুন বিষয়গুলো চালুর পর ২০২৮ সাল থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। তাই ধাপে ধাপে পরিমার্জনের মাধ্যমে ২০২৭ সালে নতুন বই দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে এটি সব শ্রেণিতে একযোগে চালু হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সরকারের শিক্ষা-দর্শন ও নীতিগত রূপরেখার আলোকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, দক্ষতাভিত্তিক এবং বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

Link copied!