গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে মাত্র ৫০ টাকার ভিজিটে চলছে চিকিৎসার এক অভিনব আয়োজন। নেই কোনো স্বীকৃত মেডিকেল ডিগ্রি, নেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন,তবুও বছরের পর বছর ধরে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র লিখে যাচ্ছেন বি এম ইকবাল কবির নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষায়, “ডাক্তারের চেয়ে তার চেম্বারে রোগীর ভিড় কম নয়!” তারা বলছেন এ কেমন ডাক্তার? গাজীপুরে ডা.ইকবাল কবির যার ডিগ্রি নাই; ভিজিট মাত্র ৫০ টাকা।
সরেজমিনে কাশিমপুর থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় মাদ্রাসা গেট এলাকায় অবস্থিত ‘ইকবাল মেডিকেল হল’-এ গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ফার্মেসিই যেন পরিণত হয়েছে অঘোষিত ক্লিনিকে। কেউ জ্বর নিয়ে, কেউ গ্যাস্ট্রিক নিয়ে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে ছুটে আসছেন তার কাছে। রোগীর কথা শুনে তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন, সঙ্গে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শও লিখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা এতদিন ভেবেছিলাম উনি ডাক্তার। পরে শুনি উনার কোনো ডিগ্রিই নেই। তাহলে এতদিন মানুষ কার কাছে চিকিৎসা নিয়েছে?”
রিকশাচালক নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরিব মানুষ ৫০ টাকা ভিজিট শুনে আসে। কিন্তু ভুল চিকিৎসা হলে তার দায় কে নেবে?”
এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমি কয়েকবার চিকিৎসা নিয়েছি। পরে অন্য ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি প্রেসক্রিপশন দেখে অবাক হন। তখনই বুঝতে পারি বিষয়টি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বি এম ইকবাল কবির অকপটে বলেন, “আমি ডাক্তার নই। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রোগী দেখি। বিভিন্ন চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সবকিছু শুধু লেখাপড়ার মাধ্যমে হয় না, অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও হয়।”
তবে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা, বিএমডিসি নিবন্ধন কিংবা কোনো স্বীকৃত ডিগ্রির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “যখন একজন ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেন তিনি ডাক্তার নন, তখন কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে রোগী দেখে প্রেসক্রিপশন লিখছেন?” তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব থাকলেও স্বীকৃত ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়া রোগী দেখা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল চিকিৎসা, ভুল ওষুধ প্রয়োগ কিংবা রোগ নির্ণয়ে ভুলের কারণে রোগীর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে। তারা স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণকে ভুয়া চিকিৎসকদের প্রতারণা থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতনতার জন্য তারা বলছেন, চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর যাচাই করুন। কম খরচে চিকিৎসার লোভে পড়ে অনিবন্ধিত ব্যক্তির শরণাপন্ন হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :