গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ৩ থেকে ৪টি ‘টর্চার সেল’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। রোববার (১৪ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারা এসব টর্চার সেল গড়ে তুলেছে, তা অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি সরকার দলীয় কোনো ব্যক্তি বা নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তাদের ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি মুজিবুর রহমান আরও বলেন, জেলার অপরাধীদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে অপরাধী ধরার নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানান।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় দেওয়া তার এই বক্তব্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সংসদ সদস্যের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে টর্চার সেলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতির কথা শোনা গেছে, কিন্তু বর্তমান সরকারের অধীনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক চুরি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী, জেলা ও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরে কথিত টর্চার সেলের অস্তিত্ব নিয়ে সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য অভিযোগ নতুন করে জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।
আপনার মতামত লিখুন :