নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় টিকটককে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী (২২) স্থানীয় ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লিমন মল্লিক চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার দাবি, স্ত্রী সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল।
সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থলের আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশের সন্দেহ হয় এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরে সোমবার রাতে লিমন মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। থানায় নেওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত লিমন মল্লিক হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :