গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় সংলগ্ন ভাতারিয়া এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডে দূষিত পানি পান করে দেড় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে টিফিন বিরতির সময় কারখানার পানীয় জল পান করার পর শ্রমিকদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দেয়। এ ঘটনায় কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শ্রমিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন। পানি পান করার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিক বমি করতে শুরু করেন। পরে একে একে আরও অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ির মাধ্যমে অসুস্থ শ্রমিকদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক এবং গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। খবর পেয়ে শ্রমিকদের স্বজনরাও হাসপাতালে ছুটে আসেন।
আহত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরেই কারখানার পানির স্বাদ ও গন্ধ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক শ্রমিক বলেন, “পানি খাওয়ার পরই পচা গন্ধ অনুভব করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং বমি হতে থাকে। এখনও শরীরে দুর্বলতা রয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজী শফিক বলেন, “কারখানার আশপাশে শ্রমিকরা ভাড়া বাসায় থাকেন। তারা সকালে কী ধরনের খাবার বা পানি গ্রহণ করেছেন, তা আমাদের জানা নেই। কারখানার ডিপ টিউবওয়েল ও ফিল্টারের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।”
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বা দূষিত পানিবাহিত সমস্যাজনিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হলেও ৩০ থেকে ৪০ জনকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গুরুতর কয়েকজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “ঘটনার পর কারখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :