রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চাইল জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের জাতিসংঘের অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, নতুন করে জমি বরাদ্দের পরিবর্তে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

শুক্রবার মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানও মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতি দেশের জন্য ক্রমেই বড় বোঝা হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অবকাঠামো ও সীমিত সম্পদের ওপর এর চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জও তীব্রতর হচ্ছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রোহিঙ্গারাও তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে আগ্রহী। এজন্য সংকটের মূল কারণ দূর করা, তাদের বাস্তুচ্যুতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।

Link copied!