যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলো

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটেছে একটি নতুন চুক্তির মাধ্যমে, যা ঘিরে ওয়াশিংটনে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে ইরানের কাছ থেকে “শর্তহীন আত্মসমর্পণ” দাবি করলেও সাম্প্রতিক চুক্তিকে অনেকে সেই অবস্থানের বিপরীত হিসেবে দেখছেন এবং কেউ কেউ দাবি করছেন, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রকেই কিছু শর্ত মেনে নিতে হয়েছে।

চুক্তির পর রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এরিক এরিকসন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প কার্যত ইরানের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, শত্রু রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। সিনেটর বিল ক্যাসিডিও এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ইরান অবরুদ্ধ শত শত কোটি ডলার ফিরিয়ে পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলও পেতে পারে। পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আংশিক ফি বা শুল্ক আদায়ের সুযোগও ইরানের সামনে আসতে পারে।

তবে অন্য পক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত ছিল। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বোমা হামলা দীর্ঘায়িত হতো, কিন্তু হরমুজ প্রণালী কখনোই স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হতো না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান আলোচনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন করেছে। যদিও চুক্তিটি এখনো পারমাণবিক সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর নির্ভরশীল রেখেছে।

অন্যদিকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ইরানকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে এবং তারা পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে যেতে পারে। আলোচনার মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নতুন করে যুদ্ধের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের চূড়ান্ত ব্যয় বিপুল অঙ্কে পৌঁছাতে পারে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ নষ্ট করেছে বলে সমালোচকদের দাবি।

 

সামগ্রিকভাবে, এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও একটি বিষয়ে অনেকেই একমত—যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক সমাধানই ছিল এই সংকট মোকাবিলার মূল পথ।

Link copied!