গাজীপুর মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য মিছিল ও শোডাউন অব্যাহত থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা ও একটি প্রভাবশালী অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা যায়,আগামীকাল২৩ জুন আ'লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে দলটি নানাভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। পাশাপাশি গাজীপুর সিটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়েছেন নানা আইনি পদক্ষেপ।
অন্যদিকে সর্বশেষ রোববার (২১ জুন) গাছা মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি মিছিল থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার (২২ জুন) একই এলাকায় আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও শোডাউন করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরপর এমন ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে বারবার প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে এবং এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি গোষ্ঠীর প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী কর্মীরা আজ উপেক্ষিত। বিপরীতে অর্থ ও প্রভাবের জোরে সুবিধাবাদী চক্র বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাধান্য পাচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে সাংগঠনিক ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং অন্যদিকে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি—এই দুই সংকট গাজীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দাবি কিংবা কথিত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশাসন, বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :