গাজীপুরে একের পর এক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিল; বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ!

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

গাজীপুরে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য শোডাউন ও মিছিলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।  রোববার ২১ জুন গাজীপুর মহানগরীর গাছা মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ'লীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশকে যখন মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় তখন বিষয়টি সামনে আসে। বিএনপির ত্যাগী নেতারা ফুঁসে ওঠেন।

স্থানীয় পর্যায়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন,এসব কর্মসূচি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী? এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শ্রেণির কথিত ‘ঝুট ব্যবসায়ী’দের প্রভাব কতটুকু? প্রশ্নের পাশাপাশি একই সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা বিএনপির ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসে একাধিক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেছেন, দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা কর্মীরা আজ মূল্যায়নহীন, অথচ অর্থশালী ও সুবিধাবাদীরা প্রাধান্য পাচ্ছেন। একটি স্ট্যাটাসে হেলাল প্রধান লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না, কারণ তাদের হাতে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। হামলা-মামলার শিকার হবে সাধারণ কর্মীরাই। সোহিদুল ইসলাম সোহেলের মন্তব্য, “ঝুট ব্যবসায়ীরা ঠিকই আছে, আমরা আপাতত অফ আছি।

মাহাবুবুর রহমান লিখেছেন, “নেতারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে টাকা কামাবে, আর কর্মীরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে হামলা-মামলার শিকার হবে— এমন পরিস্থিতি আর যেন না হয়। হাসিবুর রহমান মুন্না প্রশ্ন তুলেছেন, “কথিত নেতারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, আর কর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করবে— এভাবে কর্মীদের মূল্যায়ন না করার দায় কার?”

হারুন উর রশিদের ভাষ্য, “ঝুট ব্যবসায়ীরা এখন বাড়ি-গাড়ি নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা মূল্যায়নের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগও রয়েছে।” শাহজাহান মিয়া লিখেছেন, “শ্রীপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কিছু নেতার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সামনের দিন ভালো দেখছি না।”

আনোয়ার খান মন্তব্য করেন, “দলের জন্য দীর্ঘদিন কষ্ট করা কর্মীদের মূল্যায়ন নেই, অথচ সুযোগসন্ধানীরা সুবিধা ভোগ করছে।”এছাড়া মো. নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “নিবেদিত কর্মীদের পেছনে রেখে হাইব্রিডদের সামনে আনা হচ্ছে, যা তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে যদি বঞ্চনার অনুভূতি বাড়তে থাকে এবং বিতর্কিত অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়, তাহলে তা সাংগঠনিক ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সামাজিক মাধ্যমে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব কিংবা অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মহলের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

Link copied!