গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন শরীফপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও একটি পিকআপ ভ্যানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের আরও সাত থেকে আট সদস্য পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর রাশেদ মার্কেটের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের
গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শেরপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৩), বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে মুন্না (২৮), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ডুলিয়ার নতুন বাজার এলাকার হানিফের ছেলে শিমুল (১৮), শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা
গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ইমরান (৩৫) এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মারককোল
গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হাসান (২২)।
পুলিশ জানায়, রাতের টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শরীফপুর রাশেদ মার্কেটের সামনে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গাছা থানার এএসআই (নিরস্ত্র) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সহযোগী আরও সাত থেকে আটজন পালিয়ে যেতে সক্ষম
হয় গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশি করে একটি স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু, তিনটি ধারালো চাকু এবং একটি লোহার হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি
সাদা রঙের মাহিন্দ্রা পিকআপ ভ্যান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৪২০১) জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গাছা থানা ও আশপাশের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার রাতেও তারা বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। পালানোর সময় পড়ে গিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজন সামান্য আহত হলে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে
পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :