'একাত্তরে কোথায় ছিলেন?'— বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন ফারুক

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, তর্ক-বিতর্ক উসকে দিয়ে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চান না। তবে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন, একাত্তরে আপনারা কোথায় ছিলেন?"

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, স্বাধীনতার ঠিক আগের দিন কারা পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল? কারা বাংলাদেশের মেধাশক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল? এসব বিষয়ে সবাইকে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

বাজেট আলোচনায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিও জানান।

তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক রীতি। সেই সমালোচনার জবাবও সরকার দেবে। তবে সমালোচনা যেন গঠনমূলক হয় এবং জাতি গঠনে সহায়ক হয়। আজ সরকারে আমরা আছি, কাল আপনারা থাকবেন—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

তিনি আরও বলেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ইসলাম প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন। ইসলামকে বিতর্কের বিষয় বানানোর প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে তিনি আর তর্ক বাড়াতে চান না।

এরপর তিনি বলেন, "শুধু একটি কথাই বলতে চাই—নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন, একাত্তরে আপনারা কোথায় ছিলেন? আমাদের কিছু বলার প্রয়োজন নেই। মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে তাকালেই উত্তর পাওয়া যাবে। স্বাধীনতার ঠিক আগের দিন কারা সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল? কারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা করেছিল? বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করুন।"

নিজের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধের আহ্বান শুনেই তারা ছুটে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বিএনপির সদস্য ছিলেন না; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক আরও বলেন, বিরোধী দলেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ সংসদে বক্তব্যও দিয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি তাঁরা তোলেননি।

তিনি বলেন, "জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে কখনোই বিস্মৃত হওয়া যাবে না। স্বাধীনতার কারণেই আজ আমরা জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করছি। তাই অর্থমন্ত্রীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করুন। তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।"

Link copied!