মুক্তিযুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনকে একভাবে দেখার সুযোগ নেই: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়নের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, আর জুলাই আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন। উভয়ই সম্মানের দাবিদার হলেও তাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য এক নয়।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বক্তব্যে দুলু বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি থাকলেও সমাজে অপরাধ, নৈতিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ধর্ষণ, মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় শুধু কঠোর আইন যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও অপরাধ কমেনি। শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এর অন্যতম কারণ। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর জেলায় আগামী ৪ তারিখ ‘আলোকিত লালমনি’ নামে একটি সামাজিক কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। পাঁচটি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।

নিজেকে একজন শহীদের সন্তান উল্লেখ করে দুলু বলেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আওতায় আনা উচিত। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের গেজেটভুক্ত করে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন এবং অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মুক্তিযুদ্ধকে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে এক কাতারে দেখার সুযোগ নেই। তবে জুলাই আন্দোলনের প্রতিও সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, উভয় আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে ইতিহাস ও বাস্তবতার পার্থক্য স্বীকার করতে হবে।

দুলুর মতে, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ও অসংগতি দূর করতে পারলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সাম্যপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপরিসরে ব্যবহৃত কিছু অশালীন স্লোগান ও ভাষা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তাঁর প্রত্যাশা, নতুন সমাজ গঠনের আন্দোলন সবসময় শালীনতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক সংস্কৃতির বার্তা বহন করবে, যেমনটি ভাষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।

Link copied!