১০ পিস ইয়াবার মামলায় গ্রেপ্তার ;দুই দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানায় ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির দুই দিনের মাথায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. রায়হান রহমান ওরফে রবিনের (৩৯) কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিন পর তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। নিহত রবিন পূবাইল থানার ৪১ নং ওয়ার্ডের বসুগাঁও এলাকার আলী আকবরের ছেলে। রবিনের পরিবারে স্ত্রী, এক নাবালক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। রবিনের বাবা আলী আকবর জানান, তার ছেলে সুস্থ ছিল। তিনি বলেন, “তদন্ত করে যদি কোনো নির্যাতনের কারণ বের হয়, তাহলে আমরা জড়িতদের শাস্তি দাবি করব।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রফিকুল ইসলাম, এএসআই সুমন মিয়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স রাত্রিকালীন মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে থানাধীন হাড়ীবাড়ীরটেক এলাকার হাসনা হেনা শুটিং স্পটের সামনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের দখলে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রাখার অভিযোগে পূবাইল থানার বসুগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. রায়হান রহমান ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

রোববার (২৮ জুন) গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় রবিন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এরপর থেকেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের দাবি, কী পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটল, হাসপাতালে নেওয়ার আগে তিনি কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন ও ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হলো, এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় সে সুস্থ ছিল।

মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেলে ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত। এ ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে কেবল বিভাগীয় তদন্ত নয়, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায়।

সচেতন মহলের দাবি, গ্রেপ্তার থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার টাইমলাইন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব, সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা নথি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক আর যে কোনো তদন্ত হোক, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সঠিক কারণ উঠে আসবে। রবিনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, প্রকৃত মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করে দোষী যদি কেউ থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।

Link copied!