গাজীপুরের টঙ্গীতে কথিত মাদক সম্রাজ্ঞী আরেফিনা বেগমের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদক আস্তানায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবসার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
রোববার রাতে টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তি, গোপালপুর ও আরেফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক স্থাপনায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল, ১১ পুড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ এলাকায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসার আড়ালে আরেফিনা দীর্ঘদিন ধরে মাদক বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। মাদকের অর্থে নির্মিত তাঁর ছয়তলা ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের সময় আরেফিনার ভবনের এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের তথ্যও পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মাদক কারবার ও সেবনের জন্য ওই ভবন ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে আরেফিনার মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। এ কারণে এলাকাবাসীর অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, "মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। মাদক কারবারি, মাদকসেবী কিংবা তাদের গডফাদার, কেউ আইনের বাইরে থাকবে না।"
আপনার মতামত লিখুন :